হ্যালো বন্ধু, ইউরোপের স্বপ্ন পূরণের পথে তোমার কি IELTS একটা কাঁটা?
তুমিও কি সেই স্বপ্ন নিয়ে বসে আছো? যেখানে ঝলমলে রোদ, পরিষ্কার নীল সমুদ্র, আর ইউরোপের একটা আধুনিক লাইফস্টাইল আপনার জন্য অপেক্ষা করছে? হ্যাঁ, আমি বলছি মাল্টা (Malta)-এর কথা। আজকাল আমাদের বাংলাদেশী ভাই-বোনদের মধ্যে ইউরোপে পড়তে যাওয়ার ঝোঁকটা দারুণ বেড়েছে, আর মাল্টা যেন সেই স্বপ্নের একদম সহজলভ্য ঠিকানা!
কিন্তু, এত কিছুর মাঝেও একটা চিন্তা অনেকের মনে ঘুরপাক খায়, তাই না? আর সেটা হলো সেই তিন অক্ষরের শব্দটা IELTS (আইইএলটিএস)।
অনেকেরই হয়তো IELTS দিতে ভালো লাগে না, অথবা পরীক্ষা দিয়েও আশানুরূপ স্কোর আসে না। টেনশন করবে না! এই ব্লগটা ঠিক তোমার জন্যই লেখা। আজ আমরা খুব সহজ, ঘরের ভাষার মতো করে জানব মাল্টায় স্টুডেন্ট ভিসা পেতে গেলে IELTS কতোটা জরুরি? আর যদি IELTS না থাকে, তাহলে আমাদের জন্য বিকল্প কী কী দরজা খোলা আছে?
১. মাল্টা ও IELTS: ‘ভালো বন্ধু’ নাকি ‘বাধ্যতামূলক সঙ্গী’?
মাল্টা একটা ছোট দ্বীপ হলেও তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার মানদণ্ড বজায় রাখে। যেহেতু তাদের অফিসিয়াল ভাষাগুলোর মধ্যে একটা হলো ইংরেজি, তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা চাইবে তুমি যেন ইংরেজিতে ক্লাসে সব বুঝতে পা্রো এবং শিক্ষকের সাথে কথা বলতে পারো।
IELTS-এর আসল ভূমিকাটা কোথায়?
IELTS হলো তোমার ইংরেজি দক্ষতার একটা ‘অফিসিয়াল প্রুফ’ বা প্রমাণপত্র।
- যদি বড় স্বপ্ন থাকে (যেমন: মাস্টার্স): মাল্টার কিছু নামকরা পাবলিক ইউনিভার্সিটি (যেমন: University of Malta)-তে যদি তুমি সরাসরি বড় কোনো পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট (Post-Graduate) প্রোগ্রামে যেতে চাও, তবে তারা প্রায়শই একটা ভালো IELTS স্কোর (যেমন: 5.5 থেকে 6.5) চাইতে পারে। কারণ, মাস্টার্স বা পিএইচডি লেভেলে অনেক কঠিন অ্যাকাডেমিক লেখালেখি করতে হয়।
- যদি তোমার প্রোফাইল দুর্বল হয়: ধরো, তোমার অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট (Academic Result) একটু এদিক-সেদিক, বা তোমার স্টাডি গ্যাপ (Study Gap) বেশি। তখন IELTS স্কোরটা তোমার প্রোফাইলকে চটজলদি অনেক বেশি শক্তিশালী (Strong) করে দেয়। ভিসা অফিসার তখন তোমার উদ্দেশ্য নিয়ে অতটা সন্দেহ করেন না।
স্বস্তির খবর! IELTS না দিলেও চলবে!
কিন্তু মজার বিষয় হলো, মাল্টার বেশিরভাগ বেসরকারী কলেজ (Private College), কিছু ভালো মানের ইনস্টিটিউট এবং বিশেষ করে ডিপ্লোমা (Diploma) বা ব্যাচেলর (Bachelor’s) কোর্সের জন্য IELTS-এর শর্তটা কিন্তু বেশ শিথিল।
তারা তোমাকে সরাসরি বলবে “ঠিক আছে, IELTS না দিলেও চলবে। তুমি অন্য কোনোভাবে তোমার ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করো ।” আর এখানেই আমাদের জন্য আসে বিকল্প পথগুলো!
২. IELTS-কে ‘বাই বাই’! তোমার জন্য ৪টি দারুণ বিকল্প
তুমি যদি IELTS-এর ঝামেলায় যেতে না চাও, তাহলে এই চারটি পদ্ধতি তোমার জন্য ইউরোপের দরজা খুলে দিতে পারে। মন দিয়ে দেখে নেও, তোমার জন্য কোনটা সহজ হবে:
বিকল্প ১: MOI সার্টিফিকেট আমাদের ‘তুরুপের তাস’
এইটা হলো বাংলাদেশী স্টুডেন্টদের জন্য সবচেয়ে সোজা আর কার্যকর উপায়।
- ব্যাপারটা কী? তুমি তোমার আগের পড়াশোনার প্রতিষ্ঠান (যেখান থেকে শেষ ডিগ্রি নিয়েছো) থেকে একটা সার্টিফিকেট নেবে। এই সার্টিফিকেটে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে যে, তোমার সমস্ত পড়াশোনা (যেমন: উচ্চমাধ্যমিক বা গ্র্যাজুয়েশন) সম্পূর্ণ ইংরেজিতে (Medium of Instruction was English) পরিচালিত হয়েছে।
- কেন এত কাজের? মাল্টার বেশিরভাগ কলেজ ও ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন কমিটি এই MOI সার্টিফিকেটকে তোমার ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে সহজেই মেনে নেয়। তোমার কাজ ৮০% সহজ হয়ে গেল!
বিকল্প ২: শুধু IELTS নয়, অন্য পরীক্ষায় দেও ফোকাস
IELTS-এর মতো আরও অনেক আন্তর্জাতিক ইংরেজি পরীক্ষা আছে, যা মাল্টায় গ্রহণযোগ্য। তোমার যদি IELTS কঠিন মনে হয়, তাহলে অন্যগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারো:
- TOEFL (টোফেল): এটাও খুবই জনপ্রিয়। যদি তোমার প্রয়োজন হয়, এর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারো।
- PTE Academic (পিটিই অ্যাকাডেমিক): এটি পুরোপুরি কম্পিউটার ভিত্তিক এবং রেজাল্টও দ্রুত পাওয়া যায়। অনেকে মনে করেন, PTE-তে স্কোর তোলা IELTS-এর চেয়ে কিছুটা সহজ।
বিকল্প ৩: সরাসরি ইউনিভার্সিটির সাথে কথা বলো
অনেক কলেজই তাদের ভর্তির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তোমার সাথে একটা অনলাইন ইন্টারভিউ (Interview) নিতে পারে।
- আপনার সুযোগ: এটা কিন্তু তোমার জন্য একটা বিশাল সুযোগ! এখানে তুমি নিজে মুখে সাবলীলভাবে ইংরেজিতে কথা বলে তোমার দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবে। তোমার আত্মবিশ্বাস (Confidence) আর কথা বলার ফ্লুয়েন্সি (Fluency) যদি ভালো হয়, তবে তোমার ফাইলটার ওজন অনেক বেড়ে যাবে।
- প্রস্তুতি: এই ইন্টারভিউতে তোমার স্টাডি প্ল্যান (Study Plan), কোর্স কেন বেছে নিলে এবং পড়া শেষে দেশে ফিরে তোমার প্ল্যান কী এইসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।
বিকল্প ৪: প্রাক-সেশনাল কোর্স (Pre-Sessional Course)
যদি তোমার অ্যাকাডেমিক স্কোর খুব ভালো হয়, কিন্তু ইংরেজি দক্ষতা নিয়ে ইউনিভার্সিটির একটু সন্দেহ থাকে, তবে তারা তোমাকে একটা শর্তসাপেক্ষ অফার লেটার (Conditional Offer Letter) দিতে পারে।
- শর্তটা কী? মাল্টায় পৌঁছে মূল ক্লাস শুরুর আগে তোমাকে কয়েক সপ্তাহের বা মাসের একটা ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স (EAP) করতে হবে। এটা শেষ করলেই তুমি মূল কোর্সে যোগ দিতে পারবে। এই বিকল্পটি তাদের জন্য দারুণ, যারা নিজেদের ইংরেজির ভিত আরও মজবুত করতে চাও।
৩. তোমার ফাইল ‘সুপার স্ট্রং’ করার ৭টি টিপস
মনে রাখবেন, IELTS না থাকলে তোমার ভিসার ফাইলকে অন্যান্য দিক থেকে একেবারে নিখুঁত (Perfect) হতে হবে। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য নিচে দেওয়া এই টিপসগুলো কোনোভাবেই মিস করা চলবে না:
টিপস ১: ফাইন্যান্সিয়াল সচ্ছলতার প্রমাণ একদম স্পষ্ট
ভিসা অফিসার সবার আগে যেটা দেখবে, সেটা হলো তোমার টাকা-পয়সার ব্যাপারটা। তোমার বা তোমার স্পন্সরের অ্যাকাউন্টে টিউশন ফি এবং মাল্টায় এক বছরের থাকার খরচ (Living Expenses) দেখাতেই হবে।
জরুরী কথা: ভিসা আবেদন করার কমপক্ষে ৬ মাস আগে থেকে এই টাকাটা যেন ব্যাংকে জমা থাকে, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এটাকে বলে ফান্ড সলভেন্সি (Fund Solvency)।
টিপস ২: তোমার SOP হবে তোমার ‘নিঃশ্বাসের কথা’
SOP (Statement of Purpose) কোনো মুখস্থ লেখা নয়। এটা তোমার মনের কথা। এখানে মন খুলে লিখুন কেন মাল্টা? কেন এই কোর্স? আর পড়াশোনা শেষ করে তুমি তোমার দেশকে কী দিতে চাও? এটা প্রমাণ করবে যে তুমি পড়াশোনার বিষয়ে কতটা সিরিয়াস।
টিপস ৩: ডকুমেন্টেশন জিরো টলারেন্স
তোমার সমস্ত সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট, বার্থ সার্টিফিকেট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সবকিছু যেন নোটারাইজড (Notarized) এবং ইংরেজিতে সঠিক অনুবাদ (English Translation) করা থাকে। একটা ছোট ভুলও ভিসার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
টিপস ৪: থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন
তোমার হোস্টেল বুকিং বা রেন্টাল অ্যাগ্রিমেন্ট (Rental Agreement) ভিসার জন্য খুব জরুরি। এটা দেখায় যে তুমি যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
টিপস ৫: স্বাস্থ্য বীমা ছাড়া নয়
কমপক্ষে €30,000(৪২,৯৬,৯০০.০০ টাকা) কভারেজ সহ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা অবশ্যই থাকতে হবে। এটা সেনজেন ভিসার একটা বাধ্যতামূলক নিয়ম।
টিপস ৬: স্টাডি গ্যাপের যৌক্তিক উত্তর
যদি তোমার পড়াশোনায় কোনো বিরতি থাকে, তবে SOP-তে পরিষ্কারভাবে লিখো যে এই সময়টায় তুমি কী করছিলে (যেমন: চাকরি, ট্রেনিং, পারিবারিক ব্যবসা)। কারণ ছাড়া গ্যাপ দেখালে ভিসা অফিসার সন্দেহ করতে পারেন।
টিপস ৭: ইন্টারভিউয়ের জন্য প্র্যাকটিস
যদি ইন্টারভিউ দিতে হয়, তবে নিজের স্টাডি প্ল্যান মুখস্থ রাখো। প্রশ্নগুলো সাধারণত সহজ হয়, কিন্তু তোমার আত্মবিশ্বাস এবং সাবলীলভাবে ইংরেজিতে কথা বলার ক্ষমতাটাই আসল।
৪. মাল্টাকে কেন তোমার বেছে নেওয়া উচিত?
IELTS-এর টেনশন যখন দূরে সরালে, তখন মাল্টায় পড়াশোনার আরও কিছু দারুণ দিক জেনে নিতে পারো :
- সেনজেন ভ্রমণ: মাল্টার স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে তুমি ইউরোপের ২৬টি দেশে বিনা ভিসায় ঘুরতে পারবে। এক ঢিলে অনেক পাখি মারা!
- পার্ট-টাইম কাজ: স্টুডেন্টরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে নিজের পকেট মানি এবং কিছু লিভিং কস্ট (Living Cost) নিজেই বহন করা সম্ভব।
- নিরাপত্তা ও খরচ: মাল্টা খুবই নিরাপদ একটি দেশ। এছাড়া, অন্যান্য জনপ্রিয় ইউরোপীয় দেশের তুলনায় এখানে থাকার খরচ ও টিউশন ফি কিছুটা হলেও সাশ্রয়ী।
শেষ কথা
আমার বন্ধু, IELTS তোমার ইউরোপের স্বপ্নে কোনো বাধা নয়। এটা শুধু একটা প্রমাণপত্র, যার অনেক বিকল্প আমাদের হাতে আছে। যদি তোমার MOI সার্টিফিকেট থাকে, যদি তোমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রুফ মজবুত থাকে, আর তুমি যদি আত্মবিশ্বাসের সাথে ভিসা ফাইল তৈরি করো তবে নিশ্চিত থাকো, তোমার মাল্টা যাত্রা কেউ আটকাতে পারবে না।
তোমার দেশের বাইরে লেখাপড়ার স্বপ্নপূরণে যে কোনো ধরনের সহায়তার জন্য যোগাগাযোগ করুন মাই ড্রিম ক্যাম্পাসে। আমাদের প্রথম ১৫ মিনিটের অনলাইন কনসালটেন্সি সম্পূর্ন ফ্রি।



