ইউরোপের নীল সমুদ্র আর পাহাড়ের কোল ঘেঁষে পড়াশোনা করার স্বপ্ন কার না থাকে? আর সেই স্বপ্ন যখন সাশ্রয়ী মূল্যে পূরণ করার সুযোগ আসে, তখন সবার আগে যে দেশটার নাম মাথায় আসে তা হলো সাইপ্রাস। তুমি হয়তো অনেকদিন ধরেই ভাবছ ২০২৬ সালে পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে পাড়ি দেবে, কিন্তু মাঝপথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই চিরচেনা প্রশ্ন— “IELTS কি লাগবেই?”
আজকের এই ব্লগে আমি তোমার সেই দ্বিধা দূর করব এবং ২০২৬ সালে সাইপ্রাস স্টুডেন্ট ভিসার আদ্যোপান্ত নিয়ে আলোচনা করব। চলো, জেনে নেওয়া যাক তোমার ইউরোপীয় স্বপ্ন পূরণের পথে ঠিক কী কী করণীয়।
কেন ২০২৬ সালে সাইপ্রাস তোমার জন্য সেরা গন্তব্য?
সাইপ্রাস বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হাব হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো এখানকার উন্নত জীবনযাত্রা এবং সাশ্রয়ী টিউশন ফি। তুমি যদি অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর (যেমন জার্মানি বা ফ্রান্স) সাথে তুলনা করো, তবে দেখবে সাইপ্রাসে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকটাই কম। এছাড়া:
- সহজ ভিসা প্রক্রিয়া: অন্যান্য দেশের তুলনায় সাইপ্রাসের স্টুডেন্ট ভিসা রিজেকশন রেট বেশ কম।
- উচ্চমানের শিক্ষা: এখানে অনেকগুলো ইউনিভার্সিটি আছে যেগুলোর ডিগ্রি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
- পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ: পড়াশোনার পাশাপাশি তুমি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পাবে, যা তোমার হাতখরচ অনেকটা কমিয়ে দেবে।
- পরবর্তী গন্তব্য: সাইপ্রাসকে বলা হয় ইউরোপের গেটওয়ে। এখান থেকে ভবিষ্যতে শেঞ্জেনভুক্ত দেশগুলোতে যাওয়ার পথ অনেক সহজ হয়।
আসল প্রশ্ন: IELTS কি সত্যিই বাধ্যতামূলক?
১. IELTS ছাড়া আবেদন (Medium of Instruction – MOI)
যদি তোমার আগের পড়াশোনা (এসএসসি এবং এইচএসসি অথবা অনার্স) ইংলিশ মিডিয়ামে হয়ে থাকে অথবা তোমার কলেজের পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি থাকে, তবে তুমি MOI (Medium of Instruction) সার্টিফিকেট জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি তোমার ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করতে একটি ছোট অনলাইন ইন্টারভিউ নিতে পারে।
২. ইউনিভার্সিটির নিজস্ব পরীক্ষা
কিছু কিছু ইউনিভার্সিটি আছে যারা IELTS-এর বদলে তাদের নিজস্ব English Placement Test নেয়। তুমি যদি সেই পরীক্ষায় পাস করো, তবে তোমার আর আলাদা করে IELTS স্কোরের প্রয়োজন নেই।
৩. পাবলিক ইউনিভার্সিটি ও টপ র্যাঙ্কিং কলেজ
তুমি যদি সাইপ্রাসের সরকারি কোনো ইউনিভার্সিটি বা খুব হাই-প্রোফাইল কোনো কোর্সে ভর্তি হতে চাও, তবে তারা ৫.৫ থেকে ৬.০ ব্যান্ড স্কোর চাইতে পারে। তবে সাধারণ স্টুডেন্টদের জন্য প্রাইভেট কলেজগুলোই বেশি জনপ্রিয়, যেখানে IELTS ছাড়াই যাওয়া সম্ভব।
২০২৬ সালে সাইপ্রাস ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তালিকা
তুমি যদি মনস্থির করে ফেলো যে ২০২৬ সালেই যাবে, তবে এখন থেকেই নিচের কাগজগুলো গুছিয়ে রাখা শুরু করো:
- পাসপোর্ট: নূন্যতম ২ বছর মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট।
- শিক্ষাগত সনদ: এসএসসি এবং এইচএসসি-র মার্কশিট ও সার্টিফিকেট। মনে রাখবে এগুলো অবশ্যই শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত হতে হবে।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC): এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তোমার নামে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এই মর্মে সার্টিফিকেট লাগবে।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট: স্পন্সরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা দেখাতে হবে। টাকার উৎস সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।
- মেডিকেল রিপোর্ট: হেপাটাইটিস বি, সি, এইচআইভি এবং যক্ষ্মা (TB) পরীক্ষা করাতে হবে।
- ছবি: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা
ভিসা প্রসেসিং নিয়ে অনেক সময় আমরা ভয় পাই, কিন্তু তুমি যদি নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করো, তবে পুরো বিষয়টা অনেক সহজ হয়ে যাবে:
ধাপ ১: ইউনিভার্সিটি ও কোর্স নির্বাচন
প্রথমে তুমি কোন বিষয়ে পড়তে চাও এবং তোমার বাজেট কত তা ঠিক করো। বিজনেস, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং আইটি সেক্টরে সাইপ্রাসে প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
ধাপ ২: অফার লেটার সংগ্রহ
কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর ইউনিভার্সিটি তোমাকে একটি Conditional Offer Letter দেবে। এটি পাওয়ার পর তোমাকে প্রথম সেমিস্টারের ফি পাঠাতে হবে।
ধাপ ৩: এম্বাসি ফেস বা ভিসা ইন্টারভিউ
সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে তোমাকে সাইপ্রাস কনস্যুলেট বা এম্বাসিতে ডাকা হতে পারে। এখানে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তুমি কেন সেখানে যাচ্ছ, তোমার খরচ কে দেবে এবং পড়াশোনা শেষে তোমার পরিকল্পনা কী এই সাধারণ প্রশ্নগুলোই করা হবে। যেহেতু তুমি “তুমি” সম্বোধনে সহজভাবে কথা বলতে পারো, তাই ইন্টারভিউতে আত্মবিশ্বাসী থেকো।
খরচ কেমন হতে পারে?
সাইপ্রাসে পড়াশোনার খরচ দেশভেদে বা ইউনিভার্সিটি ভেদে ভিন্ন হয়। তবে মোটামুটি একটা ধারণা দিচ্ছি:
- টিউশন ফি: বছরে আনুমানিক ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ ইউরো (৪,২৬,৯৯০ -৭,১১,৬৫০ টাকা ) কোর্স ভেদে কম-বেশি হতে পারে)।
- আবেদন ও এমব্যাসিন ফি: প্রায় ৫০০-৭০০ ইউরো (৭১,১৬৫ – ৯৯,৬৩১ টাকা)
- জীবনযাত্রা খরচ: মাসে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০ ইউরো (৪২,৬৯৯ – ৭১,১৬৫ টাকা ) (থাকা ও খাওয়া)।
শেষ কথা
সাইপ্রাস স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৬ নিয়ে তোমার মনে যে সংশয় ছিল, আশা করি এই লেখাটি তা দূর করতে পেরেছে। IELTS না থাকলেও তোমার ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন থমকে থাকবে না। তবে মনে রেখো, একাডেমিক রেজাল্ট আর সঠিক ডকুমেন্টেশন কিন্তু আসল চাবিকাঠি।
তোমার দেশের বাইরে লেখাপড়ার স্বপ্নপূরণে যে কোনো ধরনের সহায়তার জন্য যোগাগাযোগ করুন মাই ড্রিম ক্যাম্পাসে। আমাদের প্রথম ১৫ মিনিটের অনলাইন কনসালটেন্সি সম্পূর্ন ফ্রি।



