২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ায় পড়তে আসতে চাওয়া অনেক শিক্ষার্থীরই প্রশ্ন—নিজের খরচ নিজে চালানো কি বাস্তবসম্মত?
এই ব্লগে তুলে ধরা হয়েছে মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার মোট খরচ, কাজের সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা, এবং বাস্তবে শিক্ষার্থীরা কীভাবে খরচ ম্যানেজ করেন।
বাজেট, দক্ষতা ও পরিকল্পনার আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে এই লেখাটি সহায়ক হতে পারে। বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন অথবা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার খরচ ও টিউশন ফি ম্যানেজ: কী আদৌ সম্ভব?
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য মালয়েশিয়া, যেখানে তুলনামূলক কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ আছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—মালয়েশিয়ায় পড়তে এসে নিজের টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার খরচ কি নিজের আয় দিয়ে চালানো সম্ভব?
এই ব্লগে আমরা মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, কাজের সুযোগ, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার মোট খরচ
মালয়েশিয়ার খরচ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও, শিক্ষার্থীদের জন্য তা একটি বড় বোঝা হতে পারে।
টিউশন ফি (বা বার্ষিক শিক্ষাব্যয়)
- আন্ডারগ্র্যাড কোর্স (ব্যাচেলর): RM 12,000 – RM 30,000/বছর
- ডিপ্লোমা কোর্স: RM 8,000 – RM 15,000/বছর
- মাস্টার্স (কোর্সওয়ার্ক): RM 15,000 – RM 30,000/বছর
- রিসার্চ বেজড প্রোগ্রাম: তুলনামূলক কম, এবং অনেক সময় স্কলারশিপ পাওয়া যায়
জীবনযাত্রার খরচ (লিভিং কস্ট)
- বাসা ভাড়া: RM 400 – RM 800/মাস
- খাবার: RM 400 – RM 600/মাস
- যাতায়াত, ফোন, অন্যান্য: RM 300 – RM 500/মাস
মোট বার্ষিক খরচ (টিউশন + লিভিং): প্রায় RM 25,000 – RM 50,000
বৈধ কাজের সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সুযোগ সীমিত এবং নিয়ন্ত্রিত। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট যেসব নিয়ম নির্ধারণ করেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
কী ধরনের কাজ করতে পারবেন?
- শুধুমাত্র সেমেস্টার ব্রেক চলাকালীন সময়ে
- সর্বোচ্চ সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা
- অনুমোদিত কাজের ধরন:
- রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেতে কাজ
- হোটেল হাউজকিপিং
- কনভিনিয়েন্স শপ (রিটেইল)
- পেট্রল স্টেশনে সহকারী হিসেবে
- রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেতে কাজ
যে কাজগুলো লিগালি করতে পারবেন না
- ফুল-টাইম কাজ (সেমেস্টার চলাকালীন)
- অফিস টাইপ কাজ (কর্পোরেট)
- অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং (আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়, যদিও প্রচলিত)
বাস্তবতা: শিক্ষার্থীরা কীভাবে খরচ চালান?
অনেক শিক্ষার্থী সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কিছু অল্টারনেট উপায়ে খরচ চালানোর চেষ্টা করেন। যদিও এই পথগুলো সবসময় আইনি নয়, কিন্তু বাস্তবতা থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন।
প্রচলিত আয়ের মাধ্যম (আইনগতভাবে সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ)
- ফুড ডেলিভারি (GrabFood, Foodpanda)
- স্টোর হেল্পার/ওয়্যারহাউজ কাজ
- অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং:
- গ্রাফিক ডিজাইন
- কন্টেন্ট রাইটিং
- অনলাইন টিউশন
- ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
- গ্রাফিক ডিজাইন
এই কাজগুলো ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় পড়ে না। ধরা পড়লে ভিসা বাতিল বা ডিপোর্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাহলে কি একেবারে অসম্ভব?
না, অসম্ভব নয়। তবে কৌশলী হওয়া জরুরি। নিচের পরিস্থিতিতে এটি বাস্তবসম্মত হতে পারে:
যদি আপনি মাস্টার্স বা পিএইচডি করেন (বিশেষ করে রিসার্চ বেজড)
- বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্টাইপেন্ড বা স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ থাকে
- পড়াশোনার পাশাপাশি ল্যাব বা রিসার্চ সহকারীর কাজ করে আয় সম্ভব
- এই ধরনের শিক্ষার্থী অনেক সময় ফুল-টাইম কাজের অনুমতিও পান (বিশেষ অনুমতি সহ)
পার্ট-টাইম কোর্স হলে
- পার্ট-টাইম কোর্সে অনেক সময় ফুল-টাইম কাজের সুযোগ থাকে
- তবে এর জন্য আলাদা ওয়ার্ক পারমিট দরকার
পরিবার বা স্পনসর থাকলে
- অন্তত প্রথম এক বছরের খরচ যদি আগে থেকেই থাকে, তাহলে পরে কাজ করে কিছুটা ব্যালান্স করা সহজ হয়
অনলাইন স্কিল থাকলে
- আইটি, ডিজাইন, রাইটিং, মার্কেটিং ইত্যাদি কাজে দক্ষতা থাকলে ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ভালো আয় সম্ভব
- তবে এসব কাজ আইনি ভাবে করতে হলে মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় আসতে হবে (বা অন্য ভিসা)
WhatsApp এ সরাসরি কথা বলতে ক্লিক করুন:
👉 https://wa.me/+60136743166, অথবা ফোন করুন। আমাদের ফেসবুক পেজে নক করুন। ঢাকা কিংবা মালয়শিয়া অফিসে যোগাযোগের আগে প্রাথিমিক আলোচনা অনলাইন করে নেয়া সম্ভব।
শেষ কথা : কৌশল, সচেতনতা ও বাস্তবতা মিললে সফলতা সম্ভব
মালয়েশিয়ায় নিজের পড়াশোনা ও খরচ নিজের আয়ে চালানো চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে ডিপ্লোমা বা ব্যাচেলর শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ তাদের কাজ করার সুযোগ সীমিত। তবে:
- রিসার্চ ভিত্তিক প্রোগ্রাম নির্বাচন
- স্কলারশিপ খোঁজা
- অনলাইন দক্ষতা অর্জন
- ফিনান্সিয়াল পরিকল্পনা আগে থেকেই থাকা
—এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা যায়।
স্মার্টলি চিন্তা করুন, পরিকল্পনা করুন, ঝুঁকি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিন। তাহলেই মালয়েশিয়ায় পড়ার পাশাপাশি নিজেকে টিকিয়ে রাখাও সম্ভব।



